অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশের আমলাতন্ত্রে ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করে পদোন্নতির সংস্কৃতি ভাঙতেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো দলের নয়; তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, জনগণের সেবক।”
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিহিত হয়, কিন্তু সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় এমন কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আমলাতন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে নেতা তুষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। “ক্ষমতাসীন নেতাকে খুশি করতে পারলেই পদোন্নতি নিশ্চিত—এই মনোভাব প্রশাসনকে দুর্বল করেছে। এই সিস্টেম ভাঙতেই হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।”
সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কেও তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পাস করলেও পরে তাদের দলীয় রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে এবং ব্যক্তি পূজা নয়, জবাবদিহিমূলক সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে।
উপদেষ্টা সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, সংসদে জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নের পরিবর্তে ব্যক্তি বন্দনা ও দলীয় আনুগত্য প্রাধান্য পাচ্ছে। তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট হলে স্পিকার সরকার দল থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন, যা সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীত্বে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ হলে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। একই মুখ বারবার ক্ষমতায় থাকার কারণে নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হয় না, কিন্তু সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষমা পেতে পারেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর। তিনি জানান, “আমরা দুষ্টের দমন করব, সৃষ্টের পালন করব—এই নীতিতেই রাষ্ট্র চলবে।” আগামী গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচন শুধু দলীয় সরকারের অধীনে হবে না। এটি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপ নির্ধারণ করবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, ফরিদপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
