কক্সবাজার সীমান্তের ইয়াবা সমস্যা নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার চললেও প্রশাসনিক অভিযান সত্ত্বেও বাজারে এর সহজলভ্যতা কমেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন বাহিনী প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করলেও পাচার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জব্দের পরিমাণ বাড়া মানেই সরবরাহও বেড়েছে। ফলে শুধু অভিযান নয়, কৌশলগত পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, ড্রোন ব্যবহার, ১২টি প্রধান রুটে বিশেষ মোবাইল ইউনিট, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়তি নিরাপত্তা এবং সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের মতো বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪৪টি ইয়াবা মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে ১০৩ জন সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং ২৪ মামলায় ৩০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যা স্থানীয় কিছু চক্রের সহায়তায় পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, বড় চালান শনাক্তে ড্রাগ ডিটেকশন ডগ, আধুনিক স্ক্যানার ও সোর্সভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক ডগ স্কোয়াড দিয়ে কার্যকর নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, শুধু আইন প্রয়োগে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব পাচারচক্রকে শক্তিশালী করছে। বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে ইয়াবা নেটওয়ার্ক ভাঙা কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন থেকে ছয় মাসেই বোঝা যাবে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘদিনের এই ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ভাঙতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
