বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে United States Supreme Court। শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, একতরফাভাবে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।
আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রধান বিচারপতি John Roberts রায়ে উল্লেখ করেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া এমন অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায় না।
তবে রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প পাল্টা ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ‘ধারা ১২২’-এর আওতায় নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ওভাল অফিসে বসেই আদেশে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। মঙ্গলবার থেকে নতুন শুল্ক চালু হবে।
এই আইনে প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হয়। নতুন আদেশে কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ, সার, কমলা, গরুর মাংস, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস ও নির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যদিও ছাড়ের তালিকা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি United States–Mexico–Canada Agreement–এর আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর বেশিরভাগ পণ্য ছাড় পাবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাদের ওপরও নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
আদালতের এই রায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মামলা করা অঙ্গরাজ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইইইপিএ-এর আওতায় আদায় করা বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফেরতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিষয়টি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে পারে এবং অর্থ ফেরত স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হবে না।
রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। S&P 500 সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। তবে শুল্ক ফেরত ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতির বিষয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
