মার্কিন যু'দ্ধ'বি'মা'ন ভূপাতিতের দাবি: ইরানের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সফলতা?

মার্কিন যু’দ্ধ’বি’মা’ন ভূপাতিতের দাবি: ইরানের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সফলতা?

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই তেহরানের ১২০টি ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংসের দাবি করেছে ইসরায়েল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে ইরান পাল্টা সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, তারা মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান এবং একটি এ-১০ ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনার পরই আলোচনায় উঠে এসেছে—কোন সমরাস্ত্র ব্যবহার করে এমন সফলতা পেল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরান নিজেদের তৈরি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারের ইঙ্গিত দিলেও কৌশলগত কারণে সেটির নাম প্রকাশ করেনি। ফলে এটি নতুন কোনো প্রযুক্তি, নাকি পুরনো অস্ত্রের উন্নত সংস্করণ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তৈরি সারফেস-টু-এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ‘খোরদাদ-১৫’ ব্যবহারের সম্ভাবনাই বেশি। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার এই মোবাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাত্র ৫ মিনিটে মোতায়েন করা যায় এবং অতীতেও এটি মার্কিন আকাশযান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি রয়েছে।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছে রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ২০১৬ সালে মস্কোর কাছ থেকে সংগ্রহ করে তেহরান। যদিও সাম্প্রতিক হামলায় এর কিছু ব্যাটারি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, রুশ এস-৩০০ এর ইরানি সংস্করণ ‘বাভার-৩৭৩’ ব্যবহৃত হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যা যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম।

মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো সাধারণত রাডার ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তিতে উন্নত। তাই ধারণা করা হচ্ছে, রাডারনির্ভর নয় এমন কোনো প্যাসিভ ইনফ্রারেড সেন্সরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরান এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের সিস্টেমে রাডার জ্যামিং কার্যকর হয় না।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।