ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় অর্থে গণভোটের প্রচারণা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অর্থ সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক ও গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
ড. নাদিম মাহমুদ উল্লেখ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে জনগণকে আহ্বান জানানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তিনি বলেন, এই নির্দেশনার ফলে সরকার গণভোটের ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা থেকে সরে এলেও, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন পূর্ববর্তী সপ্তাহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে অর্থ সহায়তা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার পোস্টে আরও বলা হয়, সংগঠনটির বিদায়ী সভাপতির দাবি অনুযায়ী, প্রথমে ১২ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়, এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এক কোটি টাকা প্রদান করা হয়। এই অর্থ ছাড়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
ড. নাদিম মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, কোন যুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিল থেকে এ অর্থ দিয়েছে, এবং এ বিষয়ে তৎকালীন গভর্নর অবহিত ছিলেন কিনা। তার ভাষায়, “যদি তিনি অবহিত হয়ে থাকেন, তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অনিয়ম এবং পাবলিক তহবিল তছরুপের অভিযোগ খণ্ডন করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারকে এই অভিযোগ তদন্ত করতে হবে এবং কারা কীভাবে এই অর্থ ব্যয় করেছে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি টাকার মালিক দেশের জনগণ, তাই এ ধরনের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।
