মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে দেশটির জিডিপি প্রায় ৩১ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন ডলার। এতে ঋণ-জিডিপি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১০০ দশমিক ২ শতাংশে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ তার অর্থনীতির আকারকে ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ সমপরিমাণ বাজেট ঘাটতি নিয়ে চলছে। সরকারি ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঋণ দ্রুত বাড়ছে। ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১ ডলার আয় করতে মার্কিন সরকার ব্যয় করছে প্রায় ১ দশমিক ৩৩ ডলার।
চলতি অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১০৮ শতাংশে এবং এক দশক পর তা ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে, বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তে পারে।
