পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানান, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটানো হবে। এরপর আগামী ৩০ দিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা চলবে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ।
তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির এক আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত সমাধানের পরিবর্তে ‘আমেরিকার ইচ্ছাপত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ইরান ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, যার সঙ্গে বর্তমান মার্কিন প্রস্তাবের পার্থক্য এখনো স্পষ্ট হয়নি।
শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন পক্ষের আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। উভয় পক্ষ প্রাথমিক কাঠামোয় একমত হলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
