২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের মহারণই নয়, রূপকথার নতুন গল্পও উপহার দিতে যাচ্ছে। ৪৮ দলের এই আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওকে। মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার দেশটি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
আয়তনে মাত্র ১৭১ বর্গমাইলের কুরাসাও বাংলাদেশের একটি ছোট উপজেলার সমান। অথচ সেই দেশই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১১ সালে ফিফার সদস্যপদ পাওয়া কুরাসাও মাত্র ১৫ বছরের মধ্যেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে নজির গড়েছে।
ডিক অ্যাডভোকাটের হাত ধরে স্বপ্নযাত্রা কুরাসাওর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ডাচ কোচ Dick Advocaat-এর। ৭৮ বছর বয়সী এই কোচ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
বিশ্বকাপে দলকে তুলে আনার পর অসুস্থ মেয়ের পাশে থাকতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন অ্যাডভোকাট। তবে দলের খারাপ পারফরম্যান্স এবং পারিবারিক পরিস্থিতির উন্নতির পর আবারও দায়িত্বে ফেরেন তিনি। তার প্রত্যাবর্তনে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় কুরাসাও শিবির।
রক্ষণভাগই সবচেয়ে বড় শক্তি ‘দ্য ব্লু ফ্যামিলি’ নামে পরিচিত কুরাসাওর মূল শক্তি দলীয় ঐক্য ও সংগঠিত ফুটবল। চূড়ান্ত বাছাইপর্বের শেষ ছয় ম্যাচে তারা মাত্র তিনটি গোল হজম করেছে।
ডিক অ্যাডভোকাটের কৌশল মূলত শক্তিশালী রক্ষণভাগ, নিয়ন্ত্রিত মিডফিল্ড এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর। পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪-৫-১ কিংবা ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলতে দেখা যেতে পারে দলটিকে।
তারকাখ্যাতির চেয়ে দলীয় সমন্বয় বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় তারকা না থাকলেও কুরাসাওর স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে অন্যতম মিডফিল্ডার Juninho Bacuna, যিনি বাছাইপর্বে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন।
অধিনায়ক Leandro Bacuna-র রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এছাড়া সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমি গ্র্যাজুয়েট Tahith Chong বর্তমানে দলের অন্যতম ভরসার নাম।
কঠিন গ্রুপে কঠিন চ্যালেঞ্ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কুরাসাও পড়েছে অন্যতম কঠিন গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন Germany, Ecuador এবং Ivory Coast।
ফুটবল শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকলেও কুরাসাওর আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই। কোচ অ্যাডভোকাটের বিশ্বাস, বিশ্বকাপে যেকোনো দল চমক দেখাতে পারে এবং সেই চমক দেখানোর সামর্থ্য তাদেরও রয়েছে।
দেড় লাখ মানুষের ছোট্ট এই দেশটি এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের গল্প লেখার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথা হয়তো এবারই উপহার দিতে পারে কুরাসাও।
