বিশ্বকাপে তাপদাহের কারণে মাঠের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে ফুটবলাররা

বিশ্বকাপে তাপদাহের কারণে মাঠের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে ফুটবলাররা

খেলাধুলা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আবহাওয়া নিয়ে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, টুর্নামেন্টের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও দর্শকদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ টুর্নামেন্টে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ায় অভ্যস্ত ফুটবলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন তাপদাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আল-জাজিরার আবহাওয়াবিদ এভারটন ফক্স জানিয়েছেন, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গরম বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডালাস, হিউস্টন, মায়ামি এবং মেক্সিকোর কয়েকটি ভেন্যুতে তীব্র গরমের আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে প্রায় ২৬টি ম্যাচে ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার (WBGT) সূচক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হতে পারে। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে এই সূচক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচগুলোর মধ্যে ১৭টি এমন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আধুনিক কুলিং ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সব ভেন্যুতে এই সুবিধা না থাকায় উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে খেলোয়াড়দের শরীর দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে না, ফলে পানিশূন্যতা, পেশিতে টান এবং ক্লান্তির ঝুঁকি বাড়ে।

ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স কোচ রাইয়ান আব্বাসির মতে, অতিরিক্ত গরমে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন ও ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে পেশাদার ফুটবলাররা বিভিন্ন আবহাওয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন বলে তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।

তিনি আরও বলেন, যারা নিয়মিত উষ্ণ আবহাওয়ায় অনুশীলন করেন, তারা তুলনামূলকভাবে দ্রুত অভিযোজিত হতে পারেন। এমন পরিবেশে প্রশিক্ষণ শরীরকে বিশেষ ধরনের সহনশীলতা তৈরি করতে সহায়তা করে।

এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে ফিফা। প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি, উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং স্টেডিয়ামে কুলিং অবকাঠামোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুপুরের তীব্র গরম এড়াতে কয়েকটি ম্যাচের সূচিও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আবহাওয়ার বিষয়টি এবার বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।