টেকনাফে বিশেষ জোন, সীমান্তে কড়া নজরদারি; মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার

টেকনাফে বিশেষ জোন, সীমান্তে কড়া নজরদারি; মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার

চট্টগ্রাম দেশ জুড়ে

দেশে মাদকের বিস্তার রোধে টেকনাফ অঞ্চলে বিশেষ জোন স্থাপন এবং মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করেছে সরকার। সীমান্তপথে মাদক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। এটি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গঠনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ডিএনসি জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এসব কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন, চিকিৎসা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি এবং পুনর্বাসনসহ সমন্বিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ডিএনসি আরও জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ যুগোপযোগী করতে সংশোধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে। দিবসটির মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার জরুরি। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।