এনসিপির নেত্রী ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, এমপি হওয়ার পর তিনি একদিনও এই জীবন উপভোগ করতে পারেননি। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথে নিজের স্বাভাবিক জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিসত্তার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. মাহমুদা মিতু।
তিনি লেখেন, “এমপি হওয়ার পর এই জীবনটাকে আমি এক দিনও উপভোগ করতে পারিনি। শুধু যে আমার প্রিয় গাইনোকোলজির বই খুলে বসতে পারি না, তা-ই নয়। আসল কারণ হলো, এই পথ চলতে গিয়ে কোথাও যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।”
মাহমুদা মিতু বলেন, একসময় তার জীবন ছিল হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মজার পোস্ট, ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও আড্ডার মাধ্যমে মানুষের মন ভালো করার চেষ্টা করতেন। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে তার জীবনসহ অনেকের জীবনই বদলে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে ভাবেন, এমপি হয়েছি, অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমার এমন একটি ক্যারিয়ার ও কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, যা দিয়ে চাইলে বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। হয়তো আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।”
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সহজেই প্রতিবাদ করতে পারলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে সবার স্বার্থে আপস করতে হয়। নিজের স্বাভাবিক স্বাধীনতা হারানোর কষ্টও অনুভব করেন বলে জানান তিনি।
সংসদে জুলাই আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেই সেই সময়ের নিহতদের কথা মনে পড়ে যায় উল্লেখ করে মাহমুদা মিতু বলেন, ভেতরে গভীর কষ্ট অনুভব করলেও তা প্রকাশ করতে পারেন না। তার ভাষায়, “ক্ষমতা মানুষকে সব সময় শক্তিশালী করে না, কখনো কখনো নিজের স্বাভাবিক হাসি, স্বাধীনতা ও সত্তাকেই সবচেয়ে বড় মূল্য হিসেবে দিতে হয়।”
পোস্টের শেষদিকে তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হয়তো এখন অনেকেই এর গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন না, তবে সময়ই একদিন এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দেবে। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের অপ্রকাশিত কষ্ট ও দীর্ঘশ্বাসও আল্লাহ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর বিচারই সর্বোত্তম।
