ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। আন্দোলনের প্রধান দাবি পূরণ হওয়ায় এটিকে শিক্ষার্থীদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও মত তাদের। গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ঘিরে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের তরুণদের একটি প্ল্যাটফর্ম অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দলটির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যাদের বেশিরভাগই জেন-জি প্রজন্মের।
জুন মাসে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
গত ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীরা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি পালন করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং কয়েকজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তারের পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি পূরণ হয়।
এদিকে আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই বার্তা আন্দোলনকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ হলেও এর পেছনে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–এর কারণে ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে উদ্বেগও বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ভারতের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আগামী বছর উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটের নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
