৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৫১

৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৫১

আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পলুস অক্টাভিয়ানুস জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ৩৬ জন গুরুতর আহত এবং আরও ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিক্কা অঞ্চল। সেখানে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে অনেক মানুষ ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। মাউমেরে শহরের একটি হাসপাতালের বাইরেও তাঁবু স্থাপন করে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধসে মাউমেরের বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা দুর্গত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে এখনো নিখোঁজ মানুষের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ২০টি পেট্রোল স্টেশনও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।