ভারতের সাবেক মডেল ও অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। গত ১৪ আগস্ট আদালতে ৩০ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি। এর সঙ্গে ৬০৬ পৃষ্ঠার নথিও জমা দেওয়া হয়েছে।
নয়ডার বাসিন্দা ত্বিশা ২০১২ সালে ‘মিস পুনে’ নির্বাচিত হন। পরে লরিয়েল ও ডাভের মতো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে মডেলিং এবং কয়েকটি তেলেগু সিনেমায় অভিনয় করেন। এরপর করপোরেট চাকরিতে যোগ দিয়ে সেখানেও দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে ওঠেন। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর আইনজীবী সমর্থ সিংকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে সংসারে মনোযোগী হয়েছিলেন ত্বিশা।
তবে সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটে। স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, অপমানজনক আচরণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেন ত্বিশা। শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ করা প্রায় ২০ লাখ টাকা যৌথ হিসাবে স্থানান্তরের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল ত্বিশা জানতে পারেন তিনি গর্ভবতী। চার্জশিট অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের মধ্যে তিনি গর্ভধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। ৬ মে গর্ভপাতের ওষুধ গ্রহণের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময়ও স্বামী ও শাশুড়ির আচরণ নিয়ে পরিবারের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।
সিবিআইয়ের নথিতে ত্বিশার পাঠানো একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে তিনি মাকে জানান, তার জীবন ‘নরক হয়ে গেছে’। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছিলেন তিনি।
ঘটনার দিন ১২ মে ত্বিশা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটও বুক করেছিলেন। সিবিআই জানিয়েছে, সেদিন স্বামী-স্ত্রী কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটে।
রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে ত্বিশা তার ভাবি রাশি আব্রোলকে একটি বার্তা পাঠান। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একা ছাদের দিকে যেতে দেখা যায়। রাত ৯টা ৪১ মিনিটে বাবাকে ফোন করে স্বামীর আচরণ নিয়ে ভয় প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বাবা-মাকে তার কাছে আসতে বলেন। রাত ১০টা ৫ মিনিটে মায়ের সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপ হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ছাদ থেকে উদ্ধার করে ভোপাল এইমস হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিআইয়ের দাবি, ত্বিশাকে শারীরিকভাবে হত্যা করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনই তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সমর্থ সিং ও গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
