বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু নিয়ে ছয় বছর পর নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পর মামলাটিতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে ২৮ বছর বয়সী দিশার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন পরই সুশান্ত সিং রাজপুতেরও মৃত্যু হয়। দুটি ঘটনার সময়ের নৈকট্যকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও দাবি থাকলেও, আগের তদন্তে দিশার মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধমূলক যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছিল।
বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন তদন্ত গত ২ সেপ্টেম্বর বোম্বে হাইকোর্ট দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালত সিবিআইকে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ, দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের বক্তব্য রেকর্ড এবং এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়।
আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে, তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এফআইআরে উল্লেখিত কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে; আর অপরাধের প্রমাণ না মিললে উপযুক্ত রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
দিশার বাবার অভিযোগ কী? দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার অভিযোগ, আগের তদন্তে গুরুতর কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
সিবিআইয়ের কাছে দেওয়া অভিযোগে তিনি দিশাকে ধর্ষণ ও হত্যার পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগও তুলেছেন। অভিযোগে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনীতিকের নাম উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো আদালতের রায় নেই। বোম্বে হাইকোর্টও তদন্তের পর্যায়ে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা না করার নির্দেশ দিয়েছে।
আগের তদন্তে কী বলা হয়েছিল? দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর পর মুম্বাই পুলিশ তদন্ত করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। পরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ তদন্ত দলও (SIT) বিষয়টি পর্যালোচনা করে।
মুম্বাই পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দিশার মৃত্যুর সঙ্গে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুরও কোনো অপরাধমূলক যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে আগের তদন্তে জানানো হয়েছিল।
তবে বোম্বে হাইকোর্ট আগের তদন্তের কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে এ ঘটনায় শুরুতে কেন এফআইআর দায়ের করা হয়নি, তা নিয়েও আদালত প্রশ্ন করেছিল।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর সঙ্গে কী যোগসূত্র? দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন পর, ২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতকে। এ কারণে দুই মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, দিশা ও সুশান্তের মৃত্যুর মধ্যে অপরাধমূলক কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নতুন সিবিআই তদন্তে এই বিষয়সহ মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
ছয় বছর পর আবারও আলোচনায় দিশা সালিয়ান মামলা মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন সতীশ সালিয়ান। বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পর মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
এখন সিবিআইয়ের তদন্তে দিশার মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি, আগের তদন্তের প্রক্রিয়া এবং সতীশ সালিয়ানের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিশা সালিয়ানের মৃত্যুকে হত্যা বা ধর্ষণ-হত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বর্ণনা করার সুযোগ নেই। সিবিআইয়ের তদন্ত ও পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়াতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
