প্রবাসী কার্ডে রেমিট্যান্স পাঠালে ৩% প্রণোদনার পরিকল্পনা

প্রবাসী কার্ডে রেমিট্যান্স পাঠালে ৩% প্রণোদনার পরিকল্পনা

দেশ জুড়ে

প্রবাসী কার্ডধারীদের বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের এক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

কয়েকটি দেশে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

প্রতিমন্ত্রী জানান, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ চার থেকে পাঁচটি দেশে প্রবাসী কার্ড চালুর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় দেশে ও বিদেশে আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ পরিশোধের সুবিধা যুক্ত করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার এবং ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

রিক্রুটিং এজেন্সির গ্রেডিং করার পরিকল্পনা

দেশে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দক্ষতা বিবেচনায় গ্রেডিং চালু করা হলে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০টি এজেন্সি টিকে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর মতে, এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন ও গ্রেডিং করা হলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকি করা সহজ হবে।

অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রবাসীদের ১১টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে সরকার

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান নুরুল হক।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট করতে গিয়ে দালালের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া এবং বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণেও প্রবাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রবাসীদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জমিজমার বিরোধ নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ

প্রবাসীদের জমিজমাসংক্রান্ত আইনি জটিলতা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে ফেরা কর্মীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ

বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় চলমান ‘রেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী প্রশিক্ষণে গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি ও কাজের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন নুরুল হক।

তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, প্রবাসীদের সেবা সহজ করা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রবাসী কার্ড চালু এবং রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ প্রণোদনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের আর্থিক সুবিধা বাড়তে পারে। তবে নতুন প্রণোদনা কার্যকরের সময়সীমা ও বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।