ঢাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট, দাম ৪৫০ টাকা বেশি

ঢাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট, দাম ৪৫০ টাকা বেশি

Uncategorized

রাজধানী ঢাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে, সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটের চিত্র পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার এলপিজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, তাঁর কাছে ২০০টি সিলিন্ডারের অর্ডার থাকলেও কোম্পানি থেকে পেয়েছেন মাত্র ৫০টি। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না তিনি।

রবিউল ইসলাম বলেন, ক্রেতারা একের পর এক ফোন করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরেই এই সংকট চলছে। তবে গত সোমবার থেকে চাহিদা আরও বেড়েছে।

ধানমন্ডির শংকর এলাকার দিপু এন্টারপ্রাইজের মালিক নাহিদ ইসলামও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দোকানে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও মঙ্গলবার পেয়েছেন মাত্র ২০টি।

ফার্মগেটের বিক্রেতা মো. হেদায়েতুল্লাহ জানান, আগে অর্ডার দেওয়া গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন। নতুন অর্ডার নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়তি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঘোষণা অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানে মঙ্গলবার ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় ক্রেতাদের ৩৬৩ থেকে ৪১৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া এলাকার বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে ৪৫ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। একই দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর ৫ কেজির সিলিন্ডার বোতলসহ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

দোকানটির কর্মচারী সাগর হোসেন জানান, মঙ্গলবার ১২ কেজির ৪০টি সিলিন্ডারের অর্ডার থাকলেও গাড়িতে এসেছে মাত্র ২০টি। ফলে অনেক ক্রেতাকে সিলিন্ডার দিতে পারছেন না তাঁরা।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দোকান বন্ধের ঘোষণা

এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণায় ক্রেতাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

গত সোমবার এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঘোষণা দিয়েছে, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখা হবে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

এই ঘোষণার পর অনেক ক্রেতা আগেভাগে সিলিন্ডার কেনার চেষ্টা করছেন। এতে বাজারে চাহিদার চাপ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা।

ধানমন্ডির শংকর এলাকায় চা বিক্রি করেন রাইসুল ইসলাম। মঙ্গলবার তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে দোকানে আসেন। তাঁর কাছে থাকা সিলিন্ডারের গ্যাসে আরও দুই থেকে তিন দিন চলবে। তবে দোকান বন্ধ থাকার খবর শুনে আগেভাগেই সিলিন্ডার কিনতে এসেছেন তিনি।

রাইসুল ইসলাম বলেন, গ্যাস না পেলে তাঁর চায়ের দোকান বন্ধ রাখতে হবে।

সংকটে ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতারা

এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়া, বাড়তি দাম এবং সম্ভাব্য দোকান বন্ধের ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাসাবাড়ি ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা।

বিশেষ করে যেসব পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল এবং যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস প্রয়োজন, তাদের জন্য সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া জরুরি।

সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য স্বাভাবিক রাখা ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।