দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় কোন বিভাগে কত রোগী ভর্তি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৯৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগ ও এলাকাভিত্তিক রোগী ভর্তির সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
- বরিশাল বিভাগ: ১৯৫ জন
- চট্টগ্রাম বিভাগ: ২৫৬ জন
- ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৪৩২ জন
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ১৭৭ জন
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ২৩৮ জন
- খুলনা বিভাগ: ২৩৪ জন
- ময়মনসিংহ বিভাগ: ১০০ জন
- রাজশাহী বিভাগ: ২৩০ জন
- রংপুর বিভাগ: ৭০ জন
- সিলেট বিভাগ: ১১ জন
তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ৪৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগেও নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছাড়াল ১ লাখ ৭ হাজার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে।
এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন। নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। ফুলের টব, ছাদের পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য জায়গায় পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজের ইচ্ছায় ওষুধ সেবন না করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
