বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, যেই ভূতে একসময় শেখ হাসিনাকে ধরেছিল, ঠিক সেই ভূতেই এখন বিএনপিকে ধরেছে। সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন না হলে ক্ষমতায় থাকা যেকোনো দলই একসময় স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর টাউন হলে জেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
বিএনপির বিরুদ্ধে কী বললেন মামুনুল হক?
সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, কায়েমি স্বার্থবাদীরা কখনোই তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভূতে ধরেছে—সেই ভূত, যেই ভূত একসময় শেখ হাসিনাকে ধরেছিল।’
তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নতুন নেতৃত্বের ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সংবিধান সংস্কার না হলে ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা
রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন না করা গেলে বিদ্যমান কাঠামোয় যে দলই পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকুক, একসময় তারাও আগের শাসনব্যবস্থার মতো হয়ে উঠতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামোয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির সমালোচনা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, সনদে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএনপি বিচার বিভাগকে স্বাধীন হতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর মতে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
নাগরিক সমাবেশে খেলাফত মজলিসের নেতারা
লক্ষ্মীপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা লোকমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, শাইখুল হাদিস মুফতি আব্দুল মতিন বিন হোসাইন এবং বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
