মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিভর্তি খাদে পড়ে দর্শনা পরিবহনের একটি বাসের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার হাসাড়া এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাসের সুপারভাইজার রোকুনুজ্জামান (৫৭), চালকের সহকারী চঞ্চল বিশ্বাস (২৩) ও যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ (৩২)।
রোকুনুজ্জামানের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ডপাড়ায়। চঞ্চল বিশ্বাসের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকায়। সালাউদ্দিন আহমেদের বাড়ি একই উপজেলার শিবনগর এলাকায়।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল দর্শনা পরিবহনের বাসটি। যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রার শুরু থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
হাসাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর দ্রুতগতিতে একটি কাভার্ড ভ্যানকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন বাসচালক। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেনে উঠে যায়। পরে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায় বাসটি।
দুর্ঘটনাস্থলে পাঁচ ফুটের বেশি গভীর পানি ছিল। বাসের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। প্রথমে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। পরে পানিতে তলিয়ে থাকা অংশ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাত সোয়া তিনটার দিকে তাঁরা দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
উদ্ধারকারী দল ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এ ছাড়া আরও পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার হক শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ভোর চারটার দিকে আহত ১১ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়। সকাল ছয়টার দিকে তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
আহতদের মধ্যে হৃদয়, তরিকুল ইসলাম, গিলবাড সরকার ও তিশার অবস্থা গুরুতর। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা, সে বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
