জর্ডানে গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ হামলায় নয়জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছিলেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের পোস্টে বলা হয়, যৌথ নিরাপত্তা অভিযান ও বিশেষ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সংঘর্ষে তারা আহত হন।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারাক গভর্নরেটের হাম্মুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গির্জা প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনা ঘটে। একটি শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা চলার সময় বন্দুকধারীরা সেখানে ঢুকে গুলি চালায়।
জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া সোমবার এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তরুণদের উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে কী কী পরিস্থিতি কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
হামলার পর আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। শনিবার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, জর্ডানবাসীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা অলঙ্ঘনীয়। প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার রাজা আবদুল্লাহ জানিয়েছিলেন, হামলার জবাবে সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই দিন থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান। এ সময় সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববার হামলায় নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে গির্জার পাশেই সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এএফপির ছবিতে দেখা যায়, ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে বহন করা হচ্ছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জর্ডানের কারাক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ খ্রিষ্টান।
