বছর শেষে ইসরায়েলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধ করতে চান ট্রাম্প

বছর শেষে ইসরায়েলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধ করতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া ৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনের দিন সকালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণার ইস্যু হয়ে উঠেছে। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীরা এ সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ইসরায়েলের অর্থের প্রয়োজন না থাকলে রিপাবলিকানদের কেন এ নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি খারাপ রাজনৈতিক ইস্যু। প্রশ্ন ওঠে, কেন আমরা সবাইকে ৪ বিলিয়ন ডলার করে দিই না? উত্তর হচ্ছে, ইসরায়েল আমাদের এক নম্বর সহযোগী। আমরা তাদের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি অর্থ দিই। কিন্তু এখন তাদের আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই।’

২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইসরায়েলকে প্রতিবছর ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই চলতি বছরের শেষে এ সহায়তা বন্ধ করতে চান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সামরিক সহায়তার অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েল মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে। ফলে এই অর্থের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ফিরে যায়।

ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের অর্থের প্রয়োজন থাকলে তিনি সহায়তা অব্যাহত রাখতেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা এবং এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির যোগসূত্র টানার বিষয়টি দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ইসরায়েল ইস্যুতে বাড়তে থাকা বিতর্ককে সামনে এনেছে।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের এ ঘোষণার বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের আগে সামরিক সহায়তা সত্যিই বন্ধ করা হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের অর্থ বরাদ্দের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকায় ট্রাম্পের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ আকস্মিক ঘোষণাকে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সমর্থনের নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।