সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জবানবন্দি দিচ্ছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশন ও আবদুল্লাহ আল মামুনের আইনজীবীর উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল মেলামি (CMM) কোর্টে জবানবন্দি দেন। তখন তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ এবং ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নির্দেশনায় নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। পাশাপাশি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডিবি কর্মকর্তা হারুন এই কাজে অতি উৎসাহী ছিলেন।
এ পর্যন্ত মামলায় মোট ৩৫ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষীদের বিবরণে গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তার বীভৎস চিত্র উঠে এসেছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
১ সেপ্টেম্বর ১০ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার ধারা শেষ হয়। এদিন ছয়জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন, যার মধ্যে চিকিৎসক, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে আজও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, তারেক কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। মামলায় মানবতাবিরোধী পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
