চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখার আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্যরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসানসহ অন্যরা। প্রসিকিউশন মামলার ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্কে সব আসামির বেকসুর খালাস দাবি করেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নেন।
গত ২১ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। এ সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধারণ করা হয়েছিল।
মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং ২৪ জন পলাতক। গ্রেপ্তার ছয় আসামি হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানান, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়রেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে নিহত হন। তিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। ওই দিন সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
