পাকিস্তান আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক স্থাপনা ও ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রবিবার পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, সেনাবাহিনী কান্দাহারে কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ধ্বংস করেছে। কান্দাহারেই তালেবান প্রশাসনের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অবস্থান করেন।
এছাড়া কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের মতে, ওই সুড়ঙ্গটি আফগান তালেবান ও পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ব্যবহার করত।
কান্দাহারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একজন বাসিন্দা জানান, সামরিক বিমান পাহাড়ের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার পরই একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরে আগুনের শিখা দেখা যায়।
বাসিন্দাদের দাবি, কান্দাহারের দক্ষিণ-পূর্বে স্পিন বোলদাক এলাকাতেও বিমান হামলার শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাতেও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, হামলায় কান্দাহারের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং একটি খালি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান যে স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে, সেগুলো ওই স্থানের কাছাকাছি নয়।
এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছিল, আফগানিস্তান থেকে ছোড়া ড্রোন হামলা তারা প্রতিহত করেছে। শুক্রবার রাতে অন্তত তিনটি স্থানে হামলার চেষ্টা করা হয়, যার একটি ছিল রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানি সামরিক সদর দপ্তর।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর জানিয়েছে, বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে আফগান তালেবান ‘রেড লাইন অতিক্রম করেছে’ এবং এর জবাব দেওয়া হবে।
গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানে হামলার পর ইসলামপন্থি জঙ্গিদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তালেবান সরকার কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে কোনো জঙ্গি তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘর্ষে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন।
