জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও চলমান মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যে টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বৈশাখের তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ফলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) টাঙ্গাইলে দিনের তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তীব্র গরমের চেয়েও বেশি দুর্ভোগ তৈরি করেছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা ও উপজেলা শহরে বিদ্যুতের সংকট থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ আসে আর কখন যায় তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ১৩ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর আটবার লোডশেডিং হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্তও পাঁচবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। গোপালপুর উপজেলার পরীক্ষার্থী প্রান্ত ইসলাম জানান, একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এমনকি পরীক্ষার সময়ও এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক পরীক্ষার্থী আব্দুল আওয়াল বলেন, রাতে ও দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। গৃহিণী আঁখি খাতুন বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় ছোট শিশুদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হচ্ছে। গরমে তারা ঘুমাতে পারছে না, ঘরের কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।
অটোরিকশাচালক ইনছার আলী জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবে অটোরিকশা চালাতে পারছেন না, এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজমিস্ত্রি উজ্জ্বল ইসলাম বলেন, সারাদিন কাজ করার পর ঘরে এসেও ফ্যানের বাতাস পাওয়া যাচ্ছে না। গরম ও লোডশেডিংয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা ও আশপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, দিনে ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭ মেগাওয়াট এবং রাতে ২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ফিডারভিত্তিক দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক সময় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি সংকটের প্রভাব। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানানো যায়নি।
