কলকাতার জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’ থেকে পরিচিতি পাওয়া সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল আবারও আলোচনায়। একের পর এক বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই গায়ক।
নোবেলের বিতর্কিত যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়ার পর। ফলাফল ঘোষণার পর তার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে বিতর্ক আরও বাড়ে যখন নোবেল নিজেই বিচারকদের সমালোচনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিযোগিতার সময় বিচারক ও সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গেও তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে অন্য গানকে বেশি আবেগপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন, যা দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এরপরও বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য, ফেসবুক পোস্ট ও আচরণের কারণে বিতর্কে জড়ান নোবেল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করে গান প্রকাশের আগে নেতিবাচক প্রচারণা সৃষ্টি করতেন। যদিও নোবেল একাধিকবার দাবি করেছেন, এসব বিতর্কিত পোস্ট তার নিজের নয়, বরং তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণে হয়েছে।
বারবার বিতর্কে জড়ানোর কারণে বাংলাদেশের একটি রেকর্ডিং কোম্পানি তার প্রায় ২৫টি গান বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র থেকেও তার গান বাদ পড়ে।
সম্প্রতি একটি কলেজের অনুষ্ঠানে মঞ্চে অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগেও সমালোচনার মুখে পড়েন নোবেল। অভিযোগ ওঠে, তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় মঞ্চে ওঠেন। পরে তার সাবেক স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ আনেন এবং জানান, নেশা ছাড়তে না পারার কারণেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যায়।
নোবেলের গ্রেফতারের ঘটনায় সংগীতাঙ্গনের অনেকেই নীরব রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার পক্ষে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিতর্কিত আচরণ ও আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলেই আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
