ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত।
সম্মেলন শেষে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দুই দেশের সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালকরা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, যৌথ টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মাদক, স্বর্ণ, জাল মুদ্রা ও গবাদিপশুসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধ, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
সম্মেলনে সীমান্ত পিলার স্থাপন, নদীভিত্তিক সীমান্ত নির্ধারণ, কুশিয়ারা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বিজিবি ও বিএসএফ সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত অপরাধ এবং চোরাচালান দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত সমন্বিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই বাহিনী।
দুই দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
