ফ্রান্স-সেনেগাল মহারণ আজ, ফিরবে কি ২০০২-এর সেই ইতিহাস?

ফ্রান্স-সেনেগাল মহারণ আজ, ফিরবে কি ২০০২-এর সেই ইতিহাস?

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং এবারের আসরের টাইটেল কন্টেন্ডার ফ্রান্স এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগাল।

নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। ফ্রান্স-সেনেগালের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া সেনেগাল তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।পাপা বুবা দিয়োপের সেই গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘আপসেট’ হিসেবে বিবেচিত। এবারও যদি সেনেগাল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারে, তাহলে তা হবে এবারের বিশ্বকাপের আরেকটি বড় চমক।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করা দেশম তার দীর্ঘ ১৪ বছরের কোচিং অধ্যায় শেষ করতে চান আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। জুলাইয়ে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাই বিদায়ের আগে, ফ্রান্সকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে চান তিনি। বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামছে ফ্রান্স। দলের নেতৃত্বে থাকবেন তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিস, ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজিরে দুয়ের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা।

গত মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ৪২ গোল করা এমবাপ্পে ফ্রান্সের হয়ে অলিভিয়া জিরুর সর্বোচ্চ ৫৭ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, মাইকেল ওলিস দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এবং প্রস্তুতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন।এদিকে, আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল সেনেগালও বিশ্বকাপে বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই এসেছে।

বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দলটি শেষ ৩০টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। কোচ পাপে থিয়াওয়ের দলে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ২০ জন ফুটবলার রয়েছেন। অভিজ্ঞ অধিনায়ক সাদিও মানে দলের অন্যতম প্রধান ভরসা। চোট কাটিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি ফিট এবং ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সের ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন। এছাড়া জুলস কুন্দেও সুস্থ হয়ে দলে যোগ দিয়েছেন।

এছাড়াও সেনেগালের মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেই অনুশীলনে সামান্য অস্বস্তি অনুভব করলেও ম্যাচে খেলতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানা গেছে। ফ্রান্স এর সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন—মেইনিয়াঁ, কুন্দে, কোনাতে, সালিবা, হার্নান্দেজ, চুয়ামেনি, কামাভিঙ্গা, ওলিস, গ্রিজমান, ডেম্বেলে এবং এমবাপ্পে। সেনেগালের সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন—এদুয়ার মেন্ডি, সাবালি, কুলিবালি, নিয়াকাতে, জ্যাকবস, ইদ্রিসা গেই, লামিন কামারা, পাপে সার, ইসমাইলা সার, সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন।

গ্রুপ ‘আই’-এ রয়েছে ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এই ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্স কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও সেনেগালের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ২০০২ সালের স্মৃতি প্রমাণ করে তাদের কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।