২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব ফুটবলের অর্থনীতি, আয়োজন এবং প্রতিযোগিতার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সুইস টেলিভিশনকে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, এটি পুরো বিশ্বের টুর্নামেন্ট। তাই আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
বর্তমানে ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। একই কাঠামোতে ৬৪ দল অংশ নিলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২৮টিতে। ফলে টুর্নামেন্টের সময়সূচিও অন্তত আরও এক সপ্তাহ দীর্ঘ হতে পারে। পাশাপাশি বাড়বে স্টেডিয়াম, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য অবকাঠামোগত চাহিদা।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন। তার মতে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ মূল টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মান কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাছাইপর্বের গুরুত্বও। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের সীমা কোথায় গিয়ে থামবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও বেশি দল অংশ নিলে বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব কমতে পারে। একই সঙ্গে সম্প্রচারস্বত্ব ও বাণিজ্যিক আয়ের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে, যা আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। অন্যদিকে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের একক আয়োজক সৌদি আরব। যদি এর আগেই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অনুমোদন পায়, তাহলে আয়োজক দেশগুলোর জন্য অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপ আরও বড় হলে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যালেন্ডারও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপের পাশাপাশি জাপানের জে-লিগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারও আগস্ট-মে মৌসুমে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফলে শীতকালীন বিশ্বকাপ আয়োজন হলে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগের সূচিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ব্যয় বাড়তে পারে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে তাদের প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো ব্যয়ের হিসাব ছিল। প্রত্যাশিত ফল না পেলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এছাড়া খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ, দীর্ঘ টুর্নামেন্ট, দর্শকদের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্বকাপের একচ্ছত্র আকর্ষণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে আয়োজন, অর্থনীতি, প্রতিযোগিতার মান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করবে সম্প্রসারিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপের সফলতার মূল্যায়নের ওপর।
