সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসন মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি, কমান্ড সমন্বয় ও যুদ্ধ সক্ষমতা যাচাই করতে ১০ দিনব্যাপী বার্ষিক ‘হান কুয়াং’ সামরিক মহড়া শুরু করেছে তাইওয়ান।
শনিবার (৮ আগস্ট) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কাওশিয়ুং শহরের একটি নৌঘাঁটি থেকে দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌযানে উঠে মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এবারের মহড়ায় সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নিচু দিয়ে উড়ে হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের নতুন ‘অ্যানপিং’ শ্রেণির ক্যাটাম্যারানও মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীকে সহায়তায় কোস্ট গার্ডকে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিও মহড়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
নৌঘাঁটি থেকে সেনাদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, বাস্তব সেনা, ভূখণ্ড ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে কমান্ড সমন্বয়, দ্রুত যুদ্ধ প্রতিক্রিয়া এবং নিজ ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতা যাচাই করাই ‘হান কুয়াং’ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, বাইরের হুমকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাইওয়ান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে বেইজিং। তবে চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ানের সরকার।
সম্প্রতি চীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং তার আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এবারের ‘হান কুয়াং’ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
