হরমুজ বন্ধ থাকার পরও তেলের দাম সহনীয় কীভাবে?

হরমুজ বন্ধ থাকার পরও তেলের দাম সহনীয় কীভাবে?

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হওয়ায় যুদ্ধের সময় এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রণালিটি কার্যত অচল থাকার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে তেল পরিবহনের বিকল্প রুট ও বিশেষ কৌশল।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ঝুঁকি কমাতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ডার্ক ট্যাংকার’ বা ‘ডার্ক ট্রানজিট’ কৌশল।

এই পদ্ধতিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে জাহাজগুলো স্বাভাবিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে হরমুজ প্রণালি পার হয়। ওমান উপসাগরে পৌঁছানোর পর আবার ট্রান্সপন্ডার চালু করে অন্য ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করা হয়। এরপর খালি ট্যাংকার একই কৌশলে হরমুজ পার হয়ে ফিরে আসে।

শিপিং ডেটা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ দিয়ে যাওয়া তরল কার্গোর বড় একটি অংশ ওমানি রুট অথবা ‘ডার্ক ট্রানজিট’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের হিসাবও বলছে, ট্রান্সপন্ডারভিত্তিক তথ্যের চেয়ে বাস্তবে হরমুজ দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ তেল পরিবহন হতে পারে।

তবে এ কৌশল পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করলেও জাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব। এ ছাড়া মাইন, ড্রোন হামলা ও অন্যান্য সামরিক ঝুঁকিও রয়েছে।

শুধু ডার্ক ট্যাংকার নয়, হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও সমুদ্রপথও ব্যবহার করছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো। সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাচ্ছে। অন্য উৎপাদক দেশগুলোও বিকল্প পথে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল সরিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্রাজিল, গায়ানা, ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রও উৎপাদন বাড়িয়েছে। ফলে হরমুজ সংকটের পর তেলের দাম বাড়লেও তা প্রত্যাশিত মাত্রায় আকাশচুম্বী হয়নি।

সংক্ষেপে

  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়।
  • ইরানের নিয়ন্ত্রণ এড়াতে তেলবাহী জাহাজে ‘ডার্ক ট্রানজিট’ কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে জাহাজগুলো সাময়িকভাবে ট্র্যাকিং থেকে অদৃশ্য হচ্ছে।
  • সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ বিকল্প পাইপলাইন ও রুট ব্যবহার করছে।
  • অন্য দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদনও বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।