বাংলাদেশের ফুটবলে হামজা চৌধুরীর আগমনের প্রভাব এখন জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতেও স্পষ্ট। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা এই মিডফিল্ডার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।
জার্সি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান দৌড়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ৩৫ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি জার্সিতে খেলোয়াড়দের নাম ও নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। আর ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে হামজা চৌধুরীর নাম ও নম্বরের জার্সি—প্রায় ৫ হাজার।
১ হাজার ৪০০ টাকা দামের জাতীয় দলের জার্সিতে হামজার নাম ও নম্বর যুক্ত করে কিনেছেন হাজারো সমর্থক। বিক্রির তালিকায় হামজার পর রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।
দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, হামজা বাংলাদেশে আসার পর থেকেই জাতীয় দলের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার মতে, হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহ বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
এরই মধ্যে জাতীয় দলের নতুন জার্সিও উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহও বেশ ভালো। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি জার্সির অর্ডার পড়েছে।
নতুন জার্সি তৈরির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নকশা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে তৈরি করা হয়েছে নতুন জার্সি।
ঘরের মাঠে নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে জার্সির চাহিদা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা দৌড়ের। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এক বছরে এক লাখ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করা।
নতুন ঘরের জার্সির মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলা। বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। খেলোয়াড়দের জন্য জার্সিটির দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং সমর্থকদের জন্য ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
