ক্ষমা না চেয়েদেশের বাহিরে যেতে পারবেন না খালেদা জিয়া

আইন-আদালত বাংলাদেশ রাজনীতি

দোষ স্বীকার করে ক্ষমা ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেওয়ার ‍সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এর বাইরে আইনের অন্য কোনও বিধান দেখাতে পারলে আইন পেশা ছেড়ে দেবেন বলে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

 

বুধবার (৩০ জুন) সংসদে ২০২১-২১ অর্থবছরের বাজেটের ছাটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যরা ছাটাই প্রস্তাবের পর তাদের বক্তব্য দেন। বিএনপির হারুনুর রশীদ ও মোশাররফ হোসেন ছাটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে তাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি তোলেন। বিএনপির সদস্যরা বাজেট আলোচনাকালেও একই দাবি তুলেছিলেন।

 

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনার পরিবারের সদস্যরা দরখাস্ত করলেন। উনারা দরখাস্তে বলেছিলেন, উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে হবে। তাদের আবেদনে আইনের ধারার কথা উল্লেখ ছিল না। ওই আবেদনকে ৪০১ হিসেবে ট্রিট করে দুটো শর্ত দিয়ে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। শর্ত দুটি হচ্ছে— তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি দেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। তারা (খালেদা জিয়ার পরিবার) এটা গ্রহণ করেছিলেন। গ্রহণ করে তারা খালেদা জিয়াকে জেলখানা থেকে বাসায় নিয়ে কার্যকরী করেছিলেন।’

 

 

বিএনপির নেতারা কথায় কথায় বিদেশ পাঠানোর কথা বলেন মন্তব্য করে আইন মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দরখাস্ত যখন নিষ্পত্তি হয়ে যায়, সেটা কী আবার পুনর্বিবেচনা করা যায়? উনারা তো দরখাস্ত করে শর্ত মেনে তাকে মুক্ত করে এনেছেন। তারপর এখন বলছে, বিদেশে যেতে হবে। আবার দরখাস্ত করলেন। এটা কী রকম কথা! ওই দরখাস্ত তো শেষ (নিষ্পত্তি)। সেটার ওপর তো আর কেউ কিছু করতে পারবে না। ৪০১ এর যে দরখাস্ত হিসেবে সেটা নিষ্পন্ন হয়ে গেছে। ওটা তো মঞ্জুর হয়েছে।’

 

 

মন্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আইনে ৬টি সাব-সেকশন আছে। এর মধ্যে কোথাও যদি দেখাতে পারেন— আবার দরখাস্ত করতে পারবেন, আবার পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন, তাহলে আমি আইন পেশায় থাকবো না।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তো চিকিৎসা পাননি কোথায়? যারা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন না, চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি বাধাগ্রস্ত করা হয়। উনারা এমন নজির দেখাতে পারবেন না যে, আমরা বাধাগ্রস্ত করেছি। তাহলে চিকিৎসা পাননি এই কথা বলেন কেন? নিরর্থক পলিটিক্যাল স্টান্ডবাজি করলে তো হবে না।’

 

 

মুক্তির ক্ষেত্রে আইনের বিধান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যদি মুক্তি দিতে হয়, সেটা আইনের মাধ্যমেই করতে হবে। অন্যভাবে কারও…। এক্ষেত্রে একটা উপায় আছে, তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাইতে পারেন, বা ৪০১ ধারায় সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। ক্ষমা চাইলে উনারা (রাষ্ট্রপতি ও সরকার) বিবেচনা করলে ক্ষমা করতে পারেন। আর সেই ক্ষমা চাইতে গেলে অবশ্যই দোষ স্বীকার করে চাইতে হবে। এছাড়া এই সংসদে বক্তৃতা দিয়ে বা অন্য উপায়ে… আইনটা দেখান। আইন দেখালে যদি আমরা না করি তাহলে বলতে পারবেন।’