যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন’ বলে উল্লেখ করেন।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “মোদি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে। এটা বিশাল একটি সাফল্য। এখন চীনকেও একই পথে আনতে হবে।”
ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
রাশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্য তেল ও গ্যাস, আর তাদের বড় ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন ও তুরস্ক। ট্রাম্প প্রশাসন জাপানকেও রুশ তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধে চাপ দিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, জাপানের অর্থমন্ত্রী কাটসুনোবু কাতোর সঙ্গে বৈঠকে তারা এই প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।
তবে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ভারত তাৎক্ষণিকভাবে তেল আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, কিন্তু খুব শিগগিরই এটি শেষ হবে।”
রুশ তেল ও অস্ত্র কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যা আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প একে “বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক” বলে অভিহিত করেন।
এদিকে দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে সমালোচনা করেছে, কারণ পশ্চিমা বহু দেশই এখনো রাশিয়ার সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
রুশ তেল ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত থাকলেও ট্রাম্প বুধবার মোদিকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে মোদি জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং দুই দেশ বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
