কেন ভেঙেছিল জিৎ আর স্বস্তিকার প্রেম?

কেন ভেঙেছিল জিৎ আর স্বস্তিকার প্রেম?

বিনোদন

টলিউডের একসময় সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের সম্পর্কগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল জিৎ ও স্বস্তিকা মুখার্জির নাম। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এই সম্পর্ক হঠাৎই ভেঙে যায়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা কল্পনা ঘুরে বেড়িয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।

স্বস্তিকা মুখার্জির ব্যক্তিজীবন শুরু থেকেই ছিল আলোচনায়। কৈশোর পেরিয়ে মাত্র আঠারো বছর বয়সেই পরিবারের পছন্দে তিনি বিবাহিত হন। অল্প বয়সে কন্যাসন্তান অন্বেষার জন্ম হলেও দাম্পত্য জীবনে কলহের কারণে স্বামী প্রমিত সেনের ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন স্বস্তিকা।

টলিউডে পা রাখার পরই জিৎ ও স্বস্তিকার পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। পরিচালক রবি কিনাগির ‘মাস্তান’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময়ই তাদের সম্পর্কের শুরু। ধীরে ধীরে সেই বন্ধন প্রেমে পরিণত হয়। টলিউডের পার্টি ও ছবির প্রিমিয়ারে সব জায়গায় একসঙ্গে দেখা যেত এই জুটিকে।

প্রায় ছয় বছর একসঙ্গে থাকার পর হঠাৎ করেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। যদিও বিচ্ছেদের সঠিক কারণ প্রকাশ্যে আনেননি জিৎ বা স্বস্তিকা, জল্পনা-উসকে দেয় অনুরাগীদের কৌতূহল। কেউ মনে করেন, স্বস্তিকার বিবাহিত অবস্থা এবং একজন সন্তানের মা হওয়াই এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছিল। আবার অন্যদের মতে, জিৎ-স্বস্তিকার মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ঢুকে পড়েছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। কেউ বলছেন, জিতের ঘরণী হতে হলে অভিনয় ক্যারিয়ার ছাড়তে হতো স্বস্তিকাকে, আর সে শর্তে রাজি হননি তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা জানান, এই বিচ্ছেদের প্রভাব শুধুই তার ওপর পড়েনি, বরং তার মেয়ে অন্বেষা এবং পরিবারের ওপরও পরেছে। তিনি বলেন, “আমরা ছয় বছর একসঙ্গে ছিলাম। আমার মেয়ে এখনো বলে, এটা তোমার দোষ ছিল। সে আজও বলে, আমি তোমাকে কোনো দিন ক্ষমা করব না।”

স্বস্তিকা আরও জানান, অন্বেষা জিৎকে খুব পছন্দ করত। বড় হওয়ার পরও মেয়ের মুখে সেই আফসোসের কথা শুনেছেন তিনি। তিনি বলেন, “ও বলে, এত সুন্দর একটি পুরুষ—এ তুমি কী করলে মা!”

শুধু মেয়ে নয়, স্বস্তিকার মা ও বোনও নাকি জিতের পক্ষেই ছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “মা আর বোন সব সময় ওর পক্ষ নিত। আমার বোন তো ওর বিয়েতেও গিয়েছিল। ওর কান্না দেখে আমি বলেছিলাম, এসব কী নাটক হচ্ছে।”

সময়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক বদলায়। টলিউডের এই আলোচিত প্রেম আজ অতীতের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। তবে জিৎ ও স্বস্তিকার সম্পর্ক ভাঙার গল্প এখনও অনুরাগীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।