ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে ‘এই পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে’—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার খুব স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে। আমার সঙ্গে কিছু হলে তারা ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবোলফাজল শেখারচি ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প জানেন, আমাদের নেতার দিকে আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হলে আমরা শুধু সেই হাত কেটে ফেলব না। আমরা তাদের পুরো বিশ্বকেই আগুনে জ্বালিয়ে দেব এবং এই অঞ্চলে তাদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হুমকি দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিচ্ছে—শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে ভয়াবহ ও সর্বাত্মক।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও অত্যন্ত উত্তপ্ত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে তেহরান।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সরকার কঠোরভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করায় তথ্য যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। তবে নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
