হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ইউরোপীয় নেতারা। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা দেখায়নি ইউরোপ।
সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন–এর বৈঠকে যোগ দিয়ে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কী করছে এবং তাদের লক্ষ্য কী—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায় ইউরোপ।
তিনি বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার হলে পরবর্তী ধাপে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের দেশ কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ তেল পরিবহন নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমর্থন দেবে বার্লিন।
একই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এটি ন্যাটোর কোনো অভিযান নয় এবং যুক্তরাজ্যের যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই।
জার্মান চ্যান্সেলরের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটো–র কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং এখন পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। রব জেটেন বলেছেন, স্বল্প সময়ে সেখানে সফল সামরিক অভিযান চালানো কঠিন হবে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, ইতালি এমন কোনো নৌ অভিযানে জড়িত নয়।
তবে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না গেলেও হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়তার বিষয়ে ইউরোপের চিন্তা করা উচিত।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। চলমান সংঘাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর অনীহার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, কিছু দেশ সহযোগিতায় আগ্রহী হলেও অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না, যা তার কাছে হতাশাজনক।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার পথ খুঁজছে।
