ফুরিয়ে আসছে যুদ্ধবিরতির সময়, চুক্তি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আশার পরও অনিশ্চয়তা

ফুরিয়ে আসছে যুদ্ধবিরতির সময়, চুক্তি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আশার পরও অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার আশা রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসায় এখনো উল্লেখযোগ্য বাধা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যার মাধ্যমে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শেয়ার বাজারে অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি চুক্তির আশা করছে, যেখানে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে না এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে, তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা যাবে না। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, আগে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা হলেও এখন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে তা কোনো চাপিয়ে দেওয়া শর্তে হবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান সংঘাতের পথেও যেতে প্রস্তুত।

বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চয়তায় ভরা বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয় কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনা শুরু হলেও তা সহজ হবে না। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

এদিকে মধ্যস্থতাকারী সূত্র জানিয়েছে, বুধবার আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে এবং কোনো চুক্তি হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বা ভার্চুয়ালি এতে যুক্ত হতে পারেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু বন্দর এলাকায় অবরোধ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা অবরোধ শিথিলের জন্য চাপ দিচ্ছে।

ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসবে এবং একটি ন্যায্য চুক্তির আশা রয়েছে। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।