২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন আনে। তবে নতুন পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় আবারও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন রঙের পোশাক নির্ধারণ করে পুলিশ সদর দপ্তর ইতিমধ্যে ‘পুলিশ ড্রেস বিধিমালা ২০২৫’ সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক বিভাগের উপমহাপরিদর্শক সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানিয়েছেন, পোশাক পরিবর্তনের কারণে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক খরচ হবে না। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বার্ষিক প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারি হলে পরবর্তী সময়ে নতুন রঙের পোশাক দেওয়া হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রং হবে হালকা জলপাই এবং জেলা ও অন্যান্য পুলিশের শার্টের রং হবে গাঢ় নীল। সবার প্যান্টের রং থাকবে খাকি। তবে এ পরিবর্তনের আওতার বাইরে থাকবে বিশেষ বাহিনী, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিশেষ শাখা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তর গত ১৫ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছে, বর্তমানে ব্যবহৃত পোশাক পরিবর্তনের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হওয়ায় অনেক সদস্য পেশাগতভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘পুলিশ ড্রেস বিধিমালা ২০২৫’ সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত নতুন ইউনিফর্ম কার্যকর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে দ্রুতই মাঠ পর্যায়ে নতুন পোশাক ব্যবহার শুরু হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বর্তমান পোশাকের সঙ্গে অন্য কিছু সংস্থার পোশাকের মিল থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে আলাদা করে চেনা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তারা মনে করে, পূর্বের খাকি ও নীল রঙের পোশাক দেশের পরিবেশ ও বাস্তবতার সঙ্গে বেশি উপযোগী ছিল।
অ্যাসোসিয়েশন আরও বলেছে, আগের সরকারের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছিল। এখন নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
