গ্লোবাল ডিকশনারিতে সবচেয়ে পরিচিত শব্দগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ফুটবল’। আফ্রিকার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে আধুনিক মেগাসিটি—এই একটি গোল বল বিশ্বজুড়ে মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও উন্মাদনাকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
ফুটবলের ইতিহাস অনেক পুরোনো। প্রাচীন চীনের ‘কুজু’ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের ইংল্যান্ডের হিংস্র ‘মব ফুটবল’ পর্যন্ত নানা ধাপ পেরিয়ে আধুনিক ফুটবলের রূপ পায় এই খেলা। পরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। তবে ফুটবলকে সত্যিকারের বৈশ্বিক মর্যাদায় নিয়ে আসে ফিফা বিশ্বকাপ।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফিফার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে আলাদা একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্বপ্ন দেখেন। তার উদ্যোগে ১৯২৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয় এবং ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেবার মাত্র ১৩টি দেশ অংশ নেয় এবং স্বাগতিক উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
এরপর ১৯৩৪ সালে ইতালি ও ১৯৩৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে আসর বন্ধ থাকে। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে আবার বিশ্বকাপ শুরু হয়, যেখানে উরুগুয়ে দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে ইতিহাসে নতুন যুগ শুরু হয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেলে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়ে ব্রাজিলকে তিনটি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) এনে দেন এবং বিশ্বফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা শিরোপা জেতে। তার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও বিখ্যাত ড্রিবল গোল ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
২০০২ সালে প্রথমবার এশিয়ায় যৌথভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্রাজিল রোনালদো ও রোনালদিনহোর নৈপুণ্যে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১০ সালে স্পেন ‘টিকি-টাকা’ কৌশলে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ছিল আরও একটি ঐতিহাসিক আসর। লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে হারিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেন লিওনেল মেসি।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল, তাদের শিরোপা সংখ্যা পাঁচটি। জার্মানি ও ইতালি চারবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা, আর এক আসরে সর্বোচ্চ গোল ফ্রান্সের জা ফন্টেইনের।
২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে প্রথমবার ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৪টিতে। বিশ্ব ফুটবল এখন তাকিয়ে আছে এই নতুন যুগের দিকে।
