তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে চীন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বেইজিংয়ের এসব কর্মকাণ্ডকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তাইওয়ান। একই সময়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীনের নৌবাহিনী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার (২০ মে) তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাজধানী তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, তাইওয়ান প্রণালি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, দক্ষিণ চীন সাগর এবং জাপানের আশপাশে নিয়মিত সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চীন। এতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে।
তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, চীনের এসব সামরিক তৎপরতাই বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপটিকে ঘিরে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে বেইজিং। যদিও প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে একাধিকবার সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, তবে তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ উল্লেখ করে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।
এদিকে মঙ্গলবার চীনের নৌবাহিনী জানায়, ‘লিয়াওনিং’ নেতৃত্বাধীন একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের জলসীমায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন সামরিক মহড়া পরিচালনা করা হবে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) দাবি করেছে, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক পরিকল্পনার অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। একই সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরুর আহ্বানও জানান তিনি।
বুধবার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সেখানে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি ও জাতীয় ভিশন তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়।
তবে চীনের চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাইওয়ান সরকারকে। পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ সরকারের বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
