বিশ্বকাপে নেইমারের বেদনার গল্প, ২০২৬ কি হবে মুক্তির মঞ্চ?

বিশ্বকাপে নেইমারের বেদনার গল্প, ২০২৬ কি হবে মুক্তির মঞ্চ?

খেলাধুলা

ফুটবল ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের ঘিরে গড়ে ওঠে জাদু, আবেগ আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার এমনই এক তারকা, যিনি ক্লাব ফুটবলে অর্জন করেছেন অসংখ্য সাফল্য, দুর্দান্ত গোল এবং অসাধারণ মুহূর্ত। কিন্তু বিশ্বকাপ মঞ্চে তার গল্প যেন বারবার পরিণত হয়েছে এক অপূর্ণ অধ্যায়ে। চোট, সমালোচনা এবং হৃদয়ভাঙা বিদায়—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে নেইমারের যাত্রা এখনো পূর্ণতা পায়নি। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, এবার কি শেষবারের মতো নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়?

২০১০ বিশ্বকাপের আগেই শুরু হয় প্রথম হতাশা। সান্তোসে দারুণ ফর্মে থাকা তরুণ নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিলজুড়ে জোরালো দাবি থাকলেও তৎকালীন কোচ দুঙ্গা তাকে চূড়ান্ত দলে রাখেননি। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং অনেকেই মনে করেন, এখান থেকেই বিশ্বকাপের সঙ্গে নেইমারের বেদনাময় সম্পর্ক শুরু।

২০১৪ সালে নিজের দেশে বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের জন্য স্বপ্নের মঞ্চ। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর চোটে পড়ে। মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে তিনি ছিটকে যান টুর্নামেন্ট থেকে। এরপর নেইমারবিহীন ব্রাজিল সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে পিএসজির তারকা হিসেবে মাঠে নামলেও নেইমারকে ঘিরে শুরু হয় সমালোচনা। মেক্সিকোর বিপক্ষে তার নাটকীয় প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে তাকে ‘মিম কালচার’-এর অংশ করে তোলে। যদিও মাঠে তিনি গোল করেছেন এবং দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে যায় ব্রাজিলের পথ।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের সবচেয়ে আবেগঘন আসর। প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে গ্রুপ পর্বের কিছু ম্যাচ মিস করলেও নকআউটে ফিরে গোল করে ব্রাজিলকে আশা দেখান তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হারিয়ে টাইব্রেকারে বিদায় নেয় ব্রাজিল। মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমারের দৃশ্য বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীক হয়ে থাকে।

এখন সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ, যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। বয়স, চোট এবং ফর্ম—সবকিছু মিলিয়ে এটি হতে পারে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ। তবুও কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বাস, বড় মঞ্চে এখনো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ফুটবল ভক্তদের একটাই অপেক্ষা, এবার কি শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে তাকিয়ে হাসবেন নেইমার? নাকি আবারও থেকে যাবে অপূর্ণতার দীর্ঘ ইতিহাস? নেইমারের বিশ্বকাপ গল্প তাই এখনো একটি অসমাপ্ত অধ্যায়—যার শেষ পৃষ্ঠা লেখা হতে পারে ২০২৬-এই।