হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা এবং ইরানের রাডার স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইন লক্ষ্য করে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
শনিবার (৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায় সেন্টকম।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটিও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
সেন্টকম আরও জানায়, এ ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি। একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করার বিষয়ে ইরানের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে তারা।
এর আগে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং ইরানের কিছু রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনার পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, কেশম দ্বীপ ও গোরুক অঞ্চলের টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের দাবি, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম এয়ার বেস এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাবে বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। সংস্থাটি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
