ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে না পারা দল হলেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে আকাশচুম্বী সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সবসময়ই বিশেষ আলোচনায় থাকে বাংলাদেশ।
গত কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি এ দেশের সমর্থকদের আবেগঘন সমর্থন পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশিদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল। দেশের আনাচে-কানাচে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিয়ে ইতোমধ্যে চিরাচরিত উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সাধারণ জনতা। তবে এবারের বিশ্বকাপে এই চিরচেনা উন্মাদনা ও সমর্থনের ভাগ চেয়ে এক অভিনব বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের দেশ নরওয়ে।
ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসি বা নরওয়ে দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দারুণ এক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের কাছে তাদের জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন চেয়েছে। নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসির সেই ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের উচিত নরওয়েকে সমর্থন করা।
এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে, ফুটবলপ্রেমী এই দুটি দেশের মধ্যে কেবল ফুটবলই নয়, বরং আরও অনেক বেশি কিছু ভাগাভাগির সম্পর্ক রয়েছে যা অনেকের ধারণারও বাইরে। বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল নরওয়ে। এ ছাড়া উভয় দেশই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, মধ্যস্থতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে আসা নরওয়ে হতে পারে বাংলাদেশিদের সমর্থনের জন্য একদম উপযুক্ত একটি দল।
নরওয়ে দূতাবাস তাদের বার্তায় দুই দেশের চমৎকার কিছু মিল তুলে ধরে আরও জানায়, বাংলাদেশ ও নরওয়ে উভয়ই নদী এবং সমুদ্রবেষ্টিত উপকূলীয় দেশ এবং মাছের প্রতি ভালোবাসা দুই দেশের মানুষেরই সমান।
উভয় দেশই বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্র থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—সবখানেই ফেয়ার প্লে বা ন্যায়পরায়ণতায় গভীরভাবে বিশ্বাস করে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এবং জনসংখ্যার দিক থেকে নরওয়ে তুলনামূলক ছোট রাষ্ট্র হলেও বিশ্বমঞ্চে দুই দেশের স্বপ্নই আকাশছোঁয়া।
আর যারা এখনো নরওয়েকে সমর্থন করার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছেন না, তাদের জন্য বোনাস পয়েন্ট হিসেবে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলমেশিন ও পোস্টার বয় আর্লিং ব্রাউট হালান্ডের উপস্থিতি। তাই এবার আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দলটির পাশে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার জন্য বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসি।
