জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানী জাকার্তায় রাজপথে নেমে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান শত শত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

‘দেউলিয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’ স্লোগানসংবলিত ব্যানার নিয়ে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মিছিল করে সরকারি ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতেও। দীর্ঘদিন জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখলেও বাজেট ঘাটতির চাপ সামাল দিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সরকারি ঘোষণায় জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির মুদ্রা রুপিয়াহর মানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি জুনে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর বিনিময় হার ১৮ হাজারে পৌঁছেছে, যা মার্চ মাসে ছিল প্রায় ১৬ হাজার।

বিক্ষোভকারীরা সরকারের ব্যয় অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ১৫ বিলিয়ন ডলারের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচিকে তারা অযৌক্তিক ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। দারিদ্র্য ও অপুষ্টি হ্রাসের লক্ষ্যে চালু হওয়া এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন খাতে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় সর্বশেষ বড় ছাত্র-জনতার আন্দোলন হয়েছিল গত বছরের আগস্টে। সে সময় আবাসন সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হন।