ইরানকে ‘স্বাভাবিক দেশ’ হিসেবে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন জে. ডি. ভ্যান্স

ইরানকে ‘স্বাভাবিক দেশ’ হিসেবে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন জে. ডি. ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্বাভাবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আচরণ করুক। এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা স্মারক সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়ন করলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা পাবে ইরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন বন্ধ এবং দেশটিকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা।

তিনি বলেন, “আমরা চাই ইরান একটি সফল ও সমৃদ্ধ দেশ হোক। তবে এজন্য তাদের দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করতে হবে।”

ভ্যান্সের মতে, আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী এই মজুত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করা হবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিরও সমালোচনা করেন। ভ্যান্সের দাবি, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত করার পরিবর্তে কার্যত আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, জার্মানি এবং ইরানের মধ্যে বহুপক্ষীয় পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত রাখা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা।

জে. ডি. ভ্যান্স আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান আগের চেয়ে ভিন্ন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এখন দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর বিনিময়েই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারে তেহরান।