বিশ্বকাপের রঙে রঙিন ঝিনাইদহের মনোহরপুর, গ্রামজুড়ে ফুটবল উৎসব

বিশ্বকাপের রঙে রঙিন ঝিনাইদহের মনোহরপুর, গ্রামজুড়ে ফুটবল উৎসব

খেলাধুলা দেশ জুড়ে ময়মনসিংহ

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে যখন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও উন্মাদনায় মেতেছে, তখন ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রাম। বিশ্বকাপের আবহকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামটিই যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল ফ্যান জোনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবি গোলাম মোস্তফার বাড়িকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে সাজানো হয়েছে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা, ফুটবল তারকাদের প্রতিকৃতি এবং রঙিন দেয়ালচিত্র। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের পতাকায় সেজে উঠেছে গ্রামের সড়ক, বাড়িঘর ও আঙিনা।

গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে উৎসবের আমেজ। কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ির মূল ফটক থেকে শুরু করে গাছপালা, উঠান, বসতঘর ও আশপাশের এলাকাজুড়ে ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপের নানা অনুষঙ্গ। লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় তারকাদের প্রতিকৃতি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

এই আয়োজন দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও ভিডিও শেয়ার করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন মনোহরপুরের বিশ্বকাপ উৎসবের গল্প।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে উৎসাহ সবচেয়ে বেশি। কেউ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ঘুরছে, কেউ আবার ব্রাজিলের পতাকা কাঁধে নিয়ে আনন্দ করছে। ফুটবলপ্রেমের এই উৎসব বয়স ও দলগত সমর্থনের বিভাজন ভুলিয়ে দিয়েছে গ্রামবাসীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই আমাদের গ্রামে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এবারকার আয়োজন আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন মানুষ আসছে, গ্রামের পরিচিতিও বাড়ছে।”

দর্শনার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে এখানে এসেছি। এসে মনে হচ্ছে বিদেশের কোনো ফ্যান জোনে আছি। গ্রামের মধ্যে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।”

স্থানীয় তরুণ শাওন শ্রাবণ বলেন, “বিশ্বকাপের আনন্দ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই আমরা সবাই মিলে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা হোসেন জানান, বিশ্বকাপের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতেই কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজেদের উদ্যোগে এই সাজসজ্জা করা হয়েছে।

গ্রামবাসীদের মতে, বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও এই আয়োজনের স্মৃতি দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবে। কারণ এটি শুধু ফুটবল উন্মাদনা নয়, বরং গ্রামীণ ঐক্য, সম্প্রীতি ও উৎসবপ্রিয়তারও একটি অনন্য উদাহরণ।