বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চলছে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো, জার্সি পরা, বিজয় মিছিল ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা উদযাপন করছেন বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ এবারের আসরে অংশ না নিলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন লাখো দর্শক।
বাংলাদেশের এমন ফুটবল উন্মাদনায় মুগ্ধ হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুল জেনারেল অ্যালবার্ট আর সেয়া। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আগে ক্রিকেটপ্রধান দেশ হিসেবে জানতেন। তবে এখানে এসে ফুটবলের প্রতি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
অ্যালবার্ট আর সেয়া বলেন, “সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আমাকে বলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রধান দেশ, ফুটবলের নয়। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম, খেলাধুলার প্রতি মানুষের ভালোবাসা কতটা বৈচিত্র্যময়। রাস্তায় বের হলেই বিভিন্ন দেশের জার্সি পরা সমর্থক এবং অসংখ্য পতাকা চোখে পড়ে। অবশ্য আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকও আরও বেশি হোক।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক বেশি হলেও এটি প্রমাণ করে যে দেশের মানুষের ফুটবল জ্ঞান ও আগ্রহ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
বিশ্বকাপের ফাইনালে যদি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মুখোমুখি হয়, তাহলে বাংলাদেশের উদযাপন দেখার আগ্রহও প্রকাশ করেন এই মার্কিন কূটনীতিক। তিনি বলেন, “সাবেক ফুটবলার এরিক ক্যান্টোনা বলেছিলেন, ফুটবল হলো গুরুত্বহীন বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এসে সেই কথার বাস্তবতা দেখেছি। সুযোগ পেলে আমি আপনাদের সঙ্গে ঢাকার রাস্তায় নেমে বিশ্বকাপ উদযাপন করতে চাই।”
এদিকে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডিরেক্টর অব পাবলিক এঙ্গেজমেন্ট স্কট হার্টম্যানও বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হওয়া এবং বিশ্বকাপকে উৎসবের মতো উদযাপন করা সত্যিই ব্যতিক্রমী।
স্কট হার্টম্যান বলেন, “বাংলাদেশে দেখেছি, একই পরিবারের একাংশ ব্রাজিলের আরেক অংশ আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিষয়টি খুবই মজার। সবচেয়ে ভালো লাগে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও মানুষ এটিকে নিজেদের উৎসব হিসেবে উদযাপন করে। এই আবেগ সত্যিই অসাধারণ।”
দুই মার্কিন কূটনীতিকই আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র দলের সমর্থন আরও বৃদ্ধি পাবে।
