ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নিয়ে সমালোচনাকারীদের বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে নিজ দলের সিনেটর টেড ক্রুজের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমার বন্ধু হলেও যারা এ চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাদের বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে হবে। কারণ ইরানকে আমরা এমন এক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, যেখানে আগে কোনো প্রশাসন যেতে পারেনি।”
তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের মধ্যেই কংগ্রেসে চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি।
ক্যাপিটাল হিলের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কংগ্রেসকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত পুরো কংগ্রেসের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের আয়োজনও করা হয়নি।
এদিকে সিনেটর টেড ক্রুজ শুরু থেকেই চুক্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনার বিরোধিতা করছেন তিনি।
গত সপ্তাহে এক বক্তব্যে ক্রুজ বলেন, “ইতিহাস প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চায় এমন উগ্র ধর্মতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল অর্থ দেওয়া অত্যন্ত খারাপ সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও দাবি করেন, এ চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুল পরামর্শ পাচ্ছেন। ক্রুজের ভাষ্য, “আমি চাই না আয়াতুল্লাহ সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পয়সাও যাক।”
ইরানকে ঘিরে নতুন এই সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও কংগ্রেসের অনেক সদস্য চুক্তির শর্ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
